বিএনপি সরকারের আট মাসের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আট মাস না যেতেই কয়েকজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। সকালে এক কথা, বিকেলে আরেক কথা। সরকারের অবস্থা লেজেগোবরে।’
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের উদ্যোগে জামায়াতের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও লুটপাট বেড়েছে। কয়েকজন সংসদ সদস্যের অস্ত্র নিয়ে মাঠে নামার অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। মন্ত্রী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের অর্থ লেনদেনের অভিযোগও করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে জনসভায় কোনো প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
বিএনপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। একই সঙ্গে বিএনপির নেতাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলেন তিনি।
নির্বাচন প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল কিংবা ব্যালটে অনিয়ম হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচনে কারচুপি হলে রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে পারে।
দলের আমিরের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ঠেকাতে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতি করব না, কাউকে করতেও দেব না।’
জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ এবং মাওলানা আবদুল হালিম। আরও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ জোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীনের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর।