দেশের চলমান অস্থিরতা, অপরাধপ্রবণতা ও অর্থনৈতিক চাপের পেছনে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ না থাকাকে দায়ী করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তাঁর মতে, গণভোটে জনগণের দেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত না হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের সূচনা উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা পূরণে গণভোটের ফল কার্যকর করা জরুরি। কিন্তু জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব না দিয়ে সরকার নানা বক্তব্যের মাধ্যমে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। এতে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্র সংস্কারবিষয়ক গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দুটি নির্বাচনের উদ্দেশ্য ছিল আলাদা। সংসদ নির্বাচনে বর্তমান সরকার ৫০ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে ওই নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ ও প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন। অন্যদিকে গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন পাওয়ার কথা তুলে ধরে তিনি জনগণের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা ছিল উল্লেখ করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ৩৩টি রাজনৈতিক দল ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কারের বিষয়ে একমত হয়েছিল। সেই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল গণভোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা।
গণভোটের বৈধতা নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন তিনি। মামুনুল হকের যুক্তি, একই দিনে একই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত দুটি ভোটের একটিকে অবৈধ বললে অন্যটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এ ক্ষেত্রে সংসদ নির্বাচন ও সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলার অবনতি, পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি ও সারের সংকটের পাশাপাশি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিস্তারের অভিযোগ করেন। প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারেরও সমালোচনা করেন তিনি। এসব সমস্যার সমাধানে সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন এই নেতা।
১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচি প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁদের। লংমার্চের মাধ্যমে বৃহত্তর জনসমর্থন গড়ে তুলে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবি আদায়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী, এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা।