আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার দাবি, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও প্রভাব বিস্তারের যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, নির্বাচনের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে এনসিপি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে বিএনপি যেসব রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নে এখন অনীহা দেখা যাচ্ছে। তার ভাষ্য, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে দলটির আলোচনায় থাকা ৩১ দফা নিয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেই। এতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দলের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত নেতাকর্মীরাও হতাশ হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির এই নেতা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এবং বিদ্যুতের বাড়তি বিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার অভিযোগ, এলপিজির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় রাজধানী ছেড়ে অনেক মানুষ গ্রামে ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসিফ মাহমুদ। তার অভিযোগ, আন্দোলনে ভূমিকা রাখা তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের গুরুত্ব না দিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, একসময় যারা গণতন্ত্র ও সংস্কারের দাবিতে রাজপথে ছিলেন, তাদের অনেকে এখন উপেক্ষিত।
ঠাকুরগাঁওয়ের সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েও উদ্বেগ জানান। তার অভিযোগ, ভোট শুরুর আগেই কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালটে সিল দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের আচরণে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমন পরিস্থিতিকে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনা নিয়েও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তার অভিযোগ, জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়া কিংবা ভোটে পরাজিত ব্যক্তিদের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন তাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও আপত্তি জানান তিনি।
আসিফ মাহমুদের দাবি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের প্রচারণায় প্রতিষ্ঠানের অর্থ ও পরিচিতি ব্যবহার করছেন। নগর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পোস্টার-ব্যানারে শহর নোংরা করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উচ্ছেদ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেন আসিফ মাহমুদ। তার দাবি, ফুটপাত ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদের পর আবারও বসার সুযোগ দেওয়ার কথা বলে কিছু ব্যক্তি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ চাইছেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে নতুন করে প্রভাবশালী গোষ্ঠী তৈরির অভিযোগ তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, ঢাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিস্তার ঠেকাতে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে মাঠে থাকবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের নেতাকর্মী ও কাউন্সিলর পদপ্রার্থীদের নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এনসিপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার উপযোগী সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত করতে চান তারা। গণতন্ত্র, সুশাসন ও পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের প্রত্যাশা পূরণে দলটির কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান নেতাকর্মীদের।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকারের প্রতি জনগণের মনোভাব যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম এবং নগর ব্যবস্থাপনা নিয়ে মানুষের অসন্তোষ নির্বাচনে প্রতিফলিত হতে পারে। ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেন, সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই তা স্পষ্ট হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।