জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান। তার অভিযোগ, জামায়াতের প্রভাবেই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এতে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে থাকা নেতাদের গুরুত্ব কমেছে। নতুন কমিটিকে জামায়াতের যুব শাখার সঙ্গে তুলনাও করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান। পোস্টে তিনি দাবি করেন, জামায়াত যাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চায়নি, তাদের কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, বিভিন্ন বিতর্কে সমালোচিত ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাশেদ খানের ভাষ্য, এনসিপির মধ্যে যারা স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা বজায় রাখতে চান এবং জামায়াতের রাজনীতির বিরোধিতা করেন, নতুন কমিটিতে তাদের পদাবনতি হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে পোস্টে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেননি তিনি।
কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খান। তার অভিযোগ, কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, এনসিপির গঠনতন্ত্রে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে দুই মেয়াদের বেশি থাকার সুযোগ নেই। নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের বর্তমান মেয়াদই শেষ কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এনসিপির রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দলটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে পারলে রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু নতুন কমিটির কাঠামো দেখে তার মনে হয়েছে, দলটির স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। তিনি এনসিপিকে ‘প্রক্সি জামায়াত পার্টি’ বলেও মন্তব্য করেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে এনসিপির পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক হয়েছেন মো. নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব হয়েছেন আখতার হোসেন। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও হাসনাত আব্দুল্লাহকে। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হয়েছেন সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
কমিটিতে বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক সম্পাদকীয় পদ এবং আট বিভাগসহ প্রবাসী কার্যক্রমের সাংগঠনিক দায়িত্বও বণ্টন করা হয়েছে। রাশেদ খানের বক্তব্যের বিষয়ে এনসিপির কোনো প্রতিক্রিয়া এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।




