রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর মির্জা ফখরুলের প্রার্থিতা নিশ্চিত হয়। রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি দলের মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রাথমিক সদস্যসহ দলীয় সব পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। মন্ত্রিসভা থেকেও তার পদত্যাগের কথা রয়েছে।

সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। তিনি রাষ্ট্রপতি হলে একই সঙ্গে বিএনপির মহাসচিব, স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদ এবং ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য পদে পরিবর্তন আসবে।

মির্জা ফখরুলের উত্তরসূরি হিসেবে বিএনপির ভেতরে সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে দলীয় সূত্র অনুযায়ী, জাতীয় কাউন্সিলের আগে আপাতত একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগের সম্ভাবনাই বেশি।

এর মধ্যে রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ ও আমির খসরুর নামও গুরুত্বপূর্ণভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায় শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে তার ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হবে এবং সেখানে উপনির্বাচন আয়োজন করবে নির্বাচন কমিশন। ওই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তার বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জার নাম আলোচনায় এসেছে। পেশায় চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও গবেষক শামারুহ দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন এবং আগের নির্বাচনেও বাবার পক্ষে মাঠে কাজ করেছেন।

এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের নামও আলোচনায় রয়েছে। তিনি এর আগে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মির্জা ফখরুলের ভাই।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই এবং ১৮ আগস্ট প্রত্যাহারের শেষ দিন। একাধিক প্রার্থী থাকলে ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের সভাকক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমানে সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত প্রার্থীর জয় অনেকটাই নিশ্চিত বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।

গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিধান রয়েছে।