ক্রসফায়ার ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) বক্তব্যের পেছনে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এ ধরনের বক্তব্যের জন্য আইজিপিকে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকার নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার পথে এগোচ্ছে। সাইবার সুরক্ষা আইনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সাইবার সুরক্ষার পরিবর্তে সরকার নিজেদের সুরক্ষায় আইন করতে চায়। সরকারের দেওয়া তথ্যের বাইরে অন্য তথ্য প্রচারের সুযোগ সীমিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সরকারের এ ধরনের আচরণকে ‘ফ্যাসিবাদী’ আখ্যা দিয়ে উত্তর কোরিয়ার মডেলের সঙ্গে তুলনা করেন এনসিপির এই নেতা। অপতথ্য ও গুজব প্রতিরোধের কথা বলা হলেও সরকারের পক্ষ থেকে ছড়ানো কথিত গুজবের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ময়মনসিংহের ভালুকায় সাথী আক্তারের গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ তুলে আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাথী আক্তারের নিঃশর্ত মুক্তি ও তার বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানান তিনি।
সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে আখতার হোসেন বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে সরকার সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। গুম কমিশনসহ বিভিন্ন কমিশনকে নিজেদের অনুগত করার উদ্দেশ্যে সরকার আইন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারের সঙ্গে ক্রসফায়ার নিয়ে ভেতরে কোনো আলোচনা না থাকলে আইজিপির বক্তব্যে এমন প্রসঙ্গ আসত না বলে তিনি মনে করেন।
আলোচনা সভায় নাগরিকের বাকস্বাধীনতা, সাইবার সুরক্ষা আইন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহি এবং সংস্কার কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন আখতার হোসেন।