২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। ওই দিন তার নিরাপদে দেশ ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়া কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হয়েছিল বলে বিভিন্ন সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, রাজধানীতে আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে গণভবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর শেখ হাসিনাকে অল্প সময়ের মধ্যে গণভবন ছেড়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর তাকে এবং তার বোন শেখ রেহানাকে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
সূত্রগুলোর দাবি, হেলিকপ্টারটি প্রথমে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখানে আগে থেকেই একটি সামরিক পরিবহন বিমান প্রস্তুত রাখা ছিল। পরবর্তী ধাপে ওই বিমানেই শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের ভারতের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
সামরিক সূত্রের তথ্যমতে, হেলিকপ্টার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তা। এছাড়া কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পর সেখানে উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তখনই তিনি আন্দোলনের সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে অবগত হন বলে জানা গেছে।
আরও জানা যায়, সামরিক পরিবহন বিমানে শেখ হাসিনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি এবং পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। তাদের মধ্যে তৎকালীন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী, দুই মেয়ে ও জামাতার নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।
দেশের বাইরে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিমান ও ক্রুরা পুনরায় বাংলাদেশে ফিরে আসেন। পরে অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন কর্মকর্তার দায়িত্ব ও কর্মস্থলেও পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে সামরিক সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে পুরো অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইং ইউনিটের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। গণভবন থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটি এবং সেখান থেকে ভারতের উদ্দেশে যাত্রা—পুরো প্রক্রিয়াটি দুই ধাপে সম্পন্ন হয়েছিল বলেও জানা গেছে।
তবে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের এই ঘটনায় সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য দেয়নি। এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া বেশ কিছু তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের অপেক্ষা রয়েছে।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগ: সামরিক অভিযানের নেপথ্যে কারা ছিলেন, যা জানা গেল
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। ওই দিন তার নিরাপদে দেশ ছাড়ার পুরো প্রক্রিয়া কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে পরিচ
প্রিয় বাংলাদেশরাজনীতি


