বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কঠোর সমালোচনা করে বিএনপি নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান অভিযোগ করেছেন, বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেই জামায়াত সাবেক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের যাবতীয় অপচর্চা ও স্বৈরাচারী বৈশিষ্ট্য অর্জন করেছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াত যদি কখনো ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পায়, তবে দেশে ভিন্নমত চর্চার ন্যূনতম সুযোগ বা রাজনৈতিক স্বাধীনতা থাকবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান কুষ্টিয়ায় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত-শিবিরকে একটি 'জালিম সংগঠন' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি লেখেন, "অতীতে বাংলাদেশে বিরোধীদলগুলোকে সবসময় নির্যাতিত ও বিনয়ী ভূমিকায় দেখা গেছে। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল হয়েই জামায়াত লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পেশিশক্তির মহড়া দিচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"

গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের জামায়াতের আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপি নেতা রাশেদ খান দলের সভাপতি নুরুল হক নুর এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনকে বিশেষভাবে সাধুবাদ জানান। তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদকে যারা ভেতরে ভেতরে জামায়াতমুখী করার চেষ্টা করছিল, সেইসব নেতাদের বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে।

জামায়াত মহাসচিবের সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, "গণঅধিকার পরিষদকে নিয়ে জামায়াত নেতা যে কুৎসিত বক্তব্য দিয়েছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাই। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও ফ্যাসিবাদের পতনে রাজপথে গণঅধিকার পরিষদের ভূমিকা জামায়াতের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান ছিল। জামায়াত যখন আত্মগোপনে বা গুপ্ত অবস্থায় ছিল, তখন গণঅধিকার পরিষদের কর্মীরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন। আজকের এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের এমন আস্ফালন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"