ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকায় মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেল চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, এসআরবি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক দিন ধরে মাইকিং, মিছিল ও সভা-সমাবেশে মুখর থাকা নির্বাচনী এলাকায় এখন অনেকটাই নীরবতা বিরাজ করছে। তবে ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোটার নম্বর ও ক্রমিক নম্বর-সংবলিত চিরকুট বিতরণ করতে দেখা গেছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ঠাকুরগাঁও সদর, ভূল্লী ও রুহিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। তাঁদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৭৫, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচ প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. খাদেমুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. আব্দুল আলীম নিজামী এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আসনের ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, নির্বাচনে কোনো পক্ষকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হবে না। ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নির্বাচনের ফলাফল সবাই মেনে নেবেন বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।
এদিকে নির্বাচনী এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। ঠাকুরগাঁও সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া জানান, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২১ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রচার-প্রচারণা শেষ হওয়ায় এখন ভোটগ্রহণের অপেক্ষায় প্রার্থী ও ভোটাররা। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান ভোটাররা। প্রশাসনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন।