বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ তুলে ধরে রাজনৈতিক নেতাদের সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর অভিযোগ, অনেক রাজনৈতিক নেতা নিজেরা বাজারে গিয়ে কেনাকাটা করেন না; অন্যরা তাঁদের হয়ে বাজার করেন। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও দ্রব্যমূল্যের চাপ সম্পর্কে তাঁদের বাস্তব ধারণা তৈরি হয় না। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ এবং এক পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে দেখছেন, অনেক পণ্যের দাম তাঁদের সামর্থ্যের বাইরে চলে গেছে।
নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, মধ্যবিত্ত মানুষের পক্ষেই যখন পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে, তখন নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র মানুষের পরিস্থিতি কতটা সংকটাপন্ন হতে পারে। এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের অনেক মানুষ যখন মনে করেছিলেন শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়, তখন তাঁরা রাজপথে নেমেছিলেন। তিনি বলেন, অতীতে অসম্ভব বলে মনে হওয়া পরিবর্তনও জনগণের আন্দোলনের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের প্রতিবাদ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনের পর সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এনসিপির এই নেতা।
তাঁর অভিযোগ, নির্বাচনের পর সরকার দলীয়করণ না করা, পণ্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সাধারণ মানুষ দেখতে পাচ্ছেন না। জনগণের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেকে তাঁদের কাছে অভিযোগ করেছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন।
তাঁর অভিযোগ, বিএনপি সরকার নিজেদের কার্যক্রমের জন্য যথাযথ জবাবদিহি করছে না। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে বাধ্য করার লক্ষ্যেই তাঁরা মাঠে নেমেছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একক দাবি নয়।
ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবারই চাওয়া হলো—পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর মতো আয়, পর্যাপ্ত খাবার এবং সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সুযোগ। নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যাঁরা গ্রাম থেকে এসেছেন, যাঁদের মা-বাবা এখনো গ্রামে থাকেন এবং যাঁরা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান, তাঁদের কাছে এক টাকারও মূল্য রয়েছে। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত না থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করা মানুষের জন্য বাজারে পণ্য কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। দরিদ্র মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বেশি পড়ে বলেও উল্লেখ করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, তাঁরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে যাবেন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের লক্ষ্য মানুষকে এনসিপিতে যোগ দিতে বলা নয়; বরং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে নাগরিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে যুক্ত করা। তাঁর বক্তব্য, কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি মানুষের হয়ে সব অধিকার আদায় করে দিতে পারবে না; নিজেদের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার দাবিতে সরব হওয়ার আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান ও সাশ্রয়ী জীবনযাপনের সুযোগ কোথায়—সেই প্রশ্ন জনগণকে তুলতে হবে। অধিকার আদায়ের এই লড়াই দীর্ঘ হতে পারে উল্লেখ করে তিনি আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মোহাম্মদ আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলের অন্য নেতারা।




