রাজধানীর পুরানা পল্টনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার রাতে এ ঘটনায় যুব ইউনিয়নের দুই কর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। তবে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি দীপক শীলকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হলে ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা পল্টনে আনন্দ মিছিল বের করেন। এ সময় একদল লোক মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে সংঘর্ষ সিপিবির কার্যালয় পর্যন্ত গড়ায়।
ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাহির শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, তাদের কার্যালয়ে হামলা হয়েছে। হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপি বা এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা থেকেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফী বলেন, হামলার খবর পেয়ে তিনি কার্যালয়ে যাচ্ছেন। একদল লোক পার্টি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বলে তিনি প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন।
তবে পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল আলম হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দীপক শীলকে সোমবার বিকেলে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর মুক্তির পর ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সিপিবি কার্যালয়ের সামনে আনন্দ মিছিল করেন। মিছিল থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে সিপিবির নেতাদের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মী ও হকারদের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীদের গান গাইতে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে মীনা বাজারের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংস্কৃতিকর্মীরা। পুলিশ বাধা দেওয়ায় আয়োজকেরা কর্মসূচি পালন করতে পারেননি। সেখান থেকেই দীপক শীলকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
পুরানা পল্টনের মুক্তি ভবনের ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় সিপিবির কার্যালয় এবং অষ্টম তলায় ছাত্র ও যুব ইউনিয়নের কার্যালয় অবস্থিত।