দেশের গ্রামীণ জনপদে নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রাম পুলিশের আর্থিক সুবিধা বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, প্রতিটি গ্রাম ও ইউনিয়নকে নিরাপদ রাখতে স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গ্রাম পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মহাসমাবেশে তিনি এসব ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও উপস্থিত ছিলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ৪১ হাজার গ্রাম পুলিশ সদস্য এতে অংশ নেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জানান, এখন থেকে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন হবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা। গ্রাম পুলিশ প্রধানরা পাবেন ১১ হাজার টাকা। প্রত্যেক সদস্যকে মাসে ১৫০ টাকা মোবাইল বিল দেওয়া হবে। নতুন বেতন ও সুবিধা শনিবার থেকেই কার্যকর হবে।
অবসরকালীন আর্থিক সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে। গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আনুতোষিক ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৮০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে গ্রাম পুলিশ প্রধানদের ক্ষেত্রে এ সুবিধা ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাপ্তাহিক যাতায়াত ভাতা বাড়িয়ে সাধারণ সদস্যদের জন্য ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্রধানদের জন্য ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি ও মর্যাদা বাড়াতে মহল্লাদার ও দফাদার পদবি পরিবর্তন করে যথাক্রমে গ্রাম পুলিশ সদস্য ও গ্রাম পুলিশ প্রধান করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।
নারীদের কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিটি ইউনিয়নে দুজন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন তিনি। নারী সদস্যদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ছয় মাস নির্ধারণের কথাও জানান।
গ্রাম পুলিশের অবদান স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক তাঁদের নামে নামকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সড়কের দুই পাশে লাগানো গাছ বিক্রির অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। পাশাপাশি পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন থেকে সাড়ে তিন বছর পরপর সদস্যদের নতুন সাইকেল দেওয়ার ব্যবস্থা করতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় পর্যায়ে আগাম তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কোথায় অপরাধের ঘটনা ঘটছে কিংবা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, সে বিষয়ে দ্রুত প্রশাসনকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ও অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতিতেও তাঁদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ সমাজ গঠনে পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা জরুরি। মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখা এবং বৃক্ষরোপণেও গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে দেশের আট বিভাগ থেকে নির্বাচিত আটজন সেরা গ্রাম পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা স্মারক ও অর্থ পুরস্কার দেন প্রধানমন্ত্রী।
মহাসমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, বিভিন্ন বাহিনীর প্রধান, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।