চলতি অর্থবছরের রবি মৌসুমে দেশের ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেবে সরকার। ৭ ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বাড়াতে এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় সরিষা, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হর চাষের জন্য বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার দেওয়া হবে কৃষকদের।
সরকারি আদেশে প্রণোদনা কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দ, উপকারভোগী নির্বাচন, উপকরণ বিতরণ ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, এই ৭ ফসলের মধ্যে সরিষা চাষে সবচেয়ে বেশি কৃষককে সহায়তা দেওয়া হবে, ১২ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
চিনাবাদাম চাষে ৩৫ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা, সয়াবিনে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ৯৮ লাখ টাকা, মুগে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মসুরে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, খেসারিতে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও অড়হরে পাঁচ হাজার কৃষকের জন্য ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। ৭ ফসলের মধ্যে যেকোনো একটির জন্য একজন কৃষক পরিবারকে প্রণোদনা দেওয়া যাবে। একই কৃষক পরিবার একাধিক ফসলের জন্য এ সহায়তা পাবে না।
একজন কৃষক এক বিঘা জমির জন্য সরিষার এক কেজি, চিনাবাদামের ১০ কেজি, সয়াবিনের চার কেজি, মুগের দুই কেজি, মসুরের তিন কেজি, খেসারির আট কেজি অথবা অড়হরের দুই কেজি বীজ পাবেন।
সার বিতরণের ক্ষেত্রে ১০ জন কৃষক নিয়ে একটি পুল গঠন হবে। সরিষা ও সয়াবিনের ক্ষেত্রে একটি পুলের জন্য ১০ কেজির এক বস্তা ডিএপি ও ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি, চিনাবাদাম, মুগ, মসুর ও খেসারি ও অড়হর চাষের ক্ষেত্রে একটি পুলে ২০ কেজির দুই বস্তা ডিএপি ও ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ থাকবে।
১০ বিঘা বা তার বেশি জমিতে একটি ব্লকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক নির্বাচন ও উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে নতুন আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে আদেশে।




