বিদেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে যশোর-৫ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য কাজী এনামুল হকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের কারাগার ও ডিটেনশন সেন্টারে এসব বাংলাদেশি আটক রয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই তাদের থাকতে হয়। তাই সেই আইনি কাঠামোর প্রতি সম্মান রেখেই সরকার কূটনৈতিকভাবে সহায়তা করে।

কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে আটক হওয়ার খবর পেলে সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা মিশন কারাগার কিংবা ডিটেনশন সেন্টার পরিদর্শন করে। সেখানে বন্দির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ, মামলার বিষয়ে পরামর্শ এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়।বন্দির নিজস্ব অর্থে আইনজীবী নিয়োগের সামর্থ্য না থাকলে আদালতের মাধ্যমে আইনজীবী নিয়োগের চেষ্টা করে বাংলাদেশি মিশন। পরিবারের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কোনো বন্দির জরিমানা দেওয়ার প্রয়োজন হলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা পরিশোধের ব্যবস্থা করা হয়। দেশে ফেরার জন্য প্রয়োজন হলে বিমানের টিকিটের ব্যবস্থাও করা হয়। পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে কিছু ক্ষেত্রে সরকারি অর্থে প্রত্যাবাসন ব্যয় বহনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হলে দ্রুত দেশে ফেরার জন্য ট্রাভেল পাস ইস্যু এবং বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রটোকলসহ অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলেও জানান মন্ত্রী।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সমন্বয়ে বিদেশস্থ বাংলাদেশি মিশনগুলো এসব সেবা দিয়ে থাকে।কিছু ক্ষেত্রে আটক বাংলাদেশিদের জন্য স্বাগতিক দেশের সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার লক্ষ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক বাংলাদেশি এবং মিয়ানমারে আটক তিন বাংলাদেশি জেলেকে দেশে ফেরানোর ক্ষেত্রেও এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিদেশে আটক বাংলাদেশিদের দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে শিগগির একটি বিশেষ পোর্টাল চালু করবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।