ইতিহাসের পাতায় ২৮ অক্টোবর শুধু একটি তারিখ নয়; এ দিনে বিভিন্ন সময়ে পৃথিবী ছেড়ে গেছেন এমন কিছু মানুষ, যাদের কাজ ও অবদান এখনো স্মরণ করা হয়। সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞান, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা ইতিহাসের অংশ হয়ে আছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের পরিচয় তুলে ধরা হলো।
১. মোগল সম্রাট জাহাঙ্গীর (১৬২৭)
মোগল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয় ১৬২৭ সালের ২৮ অক্টোবর। তার শাসনামলে মোগল দরবারের চিত্রকলা ও শিল্পচর্চা বিশেষভাবে বিকশিত হয়।
২. জন লক (১৭০৪)
ইংরেজ দার্শনিক জন লক মারা যান ১৭০৪ সালের ২৮ অক্টোবর। ব্যক্তিস্বাধীনতা, প্রাকৃতিক অধিকার ও রাষ্ট্রের ক্ষমতা নিয়ে তার চিন্তাধারা আধুনিক রাজনৈতিক দর্শনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রেখেছে।
৩. লালবিহারী দে (১৮৯৪)
বাংলার লোককথা ও গ্রামীণ জীবনের চিত্র তুলে ধরার জন্য পরিচিত লেখক ও লোককাহিনি সংগ্রাহক লালবিহারী দে ১৮৯৪ সালের ২৮ অক্টোবর মারা যান। বাংলার লোকজ ঐতিহ্যকে বৃহত্তর পাঠকসমাজের কাছে তুলে ধরতে তার কাজ উল্লেখযোগ্য।
৪. ম্যাক্স মুলার (১৯০০)
জার্মান বংশোদ্ভূত ভাষাবিদ ও প্রাচ্যবিদ ম্যাক্স মুলারের মৃত্যু হয় ১৯০০ সালের ২৮ অক্টোবর। সংস্কৃত ভাষা, ভারতীয় ধর্ম ও দর্শন নিয়ে গবেষণা এবং অনুবাদের জন্য তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত।
৫. বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান (১৯৭১)
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৭১ সালের ২৮ অক্টোবর শহীদ হন। দেশের স্বাধীনতার জন্য তার অসামান্য সাহসিকতা ও আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
৬. তহা হুসাইন (১৯৭৩)
মিশরের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষাবিদ তহা হুসাইনের মৃত্যু হয় ১৯৭৩ সালের ২৮ অক্টোবর। আধুনিক আরবি সাহিত্য ও শিক্ষা-চিন্তার বিকাশে তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
৭. টেড হিউজ (১৯৯৮)
ব্রিটিশ কবি ও লেখক টেড হিউজ ১৯৯৮ সালের ২৮ অক্টোবর মারা যান। প্রকৃতি, প্রাণিজগৎ ও মানুষের মনোজগত নিয়ে তার কবিতা আধুনিক ইংরেজি সাহিত্যে বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।
৮. অন্নদাশঙ্কর রায় (২০০২)
বাংলা সাহিত্যের পরিচিত লেখক, কবি, ছড়াকার ও প্রাবন্ধিক অন্নদাশঙ্কর রায়ের মৃত্যু হয় ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর। তার লেখায় মানবতাবোধ, সমাজসচেতনতা ও ব্যঙ্গের স্বতন্ত্র প্রকাশ দেখা যায়।
৯. রিচার্ড স্মোলি (২০০৫)
নোবেলজয়ী মার্কিন রসায়নবিদ রিচার্ড স্মোলি মারা যান ২০০৫ সালের ২৮ অক্টোবর। কার্বনের নতুন রূপ নিয়ে গবেষণা এবং ন্যানোবিজ্ঞানের বিকাশে তার অবদান উল্লেখযোগ্য।
স্মরণে থাকুক তাদের কর্ম
সময়ের ব্যবধানে এসব গুণীজন পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তাদের কাজ, চিন্তা, সাহিত্য ও আত্মত্যাগ ইতিহাসে রয়ে গেছে। কেউ জ্ঞানের পরিধি বাড়িয়েছেন, কেউ মানুষের ভাবনার জগৎকে সমৃদ্ধ করেছেন, আবার কেউ দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন। তাদের স্মরণ করা মানে কেবল অতীতকে ফিরে দেখা নয়, আগামী প্রজন্মের কাছে অবদান ও আদর্শের কথা পৌঁছে দেওয়া।




