সময়ের প্রবাহে প্রতিদিনই পৃথিবী থেকে বিদায় নেন নানা ক্ষেত্রে অবদান রাখা গুণী মানুষ। তাদের কেউ রাজনীতিতে, কেউ সাহিত্য-সংস্কৃতিতে, আবার কেউ বিজ্ঞান, শিল্প কিংবা সমাজসেবায় রেখে যান স্মরণীয় কীর্তি। ৪ নভেম্বরও এমন কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রয়াণের দিন, যাদের কর্ম ও অবদান আজও মানুষের স্মৃতিতে অমলিন।
৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণকারী বিশিষ্ট ব্যক্তিরা-
ফেলিক্স মেন্ডেলসন (১৮০৯–১৮৪৭) জার্মান সংগীতজ্ঞ ও সুরকার। ১৮৪৭ সালের ৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন বিশ্বখ্যাত জার্মান সুরকার ফেলিক্স মেন্ডেলসন। ধ্রুপদি সংগীতের রোমান্টিক ধারায় তার অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পিয়ানো, অর্কেস্ট্রা ও সংগীত পরিচালনায় অসাধারণ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
উইলফ্রেড ওয়েন (১৮৯৩–১৯১৮) ব্রিটিশ কবি ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক। ১৯১৮ সালের ৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন ইংরেজ কবি উইলফ্রেড ওয়েন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা, সৈনিকদের দুর্দশা ও যুদ্ধের নির্মমতা তার কবিতায় গভীরভাবে উঠে এসেছে। যুদ্ধবিরতির মাত্র সাত দিন আগে সম্মুখযুদ্ধে প্রাণ হারান তিনি।
গ্যাব্রিয়েল ফোরে (১৮৪৫–১৯২৪) ফরাসি সুরকার ও সংগীতশিল্পী। ১৯২৪ সালের ৪ নভেম্বর প্রয়াত হন ফরাসি সংগীতজ্ঞ গ্যাব্রিয়েল ফোরে। ধ্রুপদি ও রোমান্টিক সংগীতের সংমিশ্রণে তিনি নিজস্ব সুরের জগৎ তৈরি করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত সংগীতকর্ম ‘রেকুইয়েম’ বিশ্বসংগীতের ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
ইয়িৎসাক রবিন (১৯২২–১৯৯৫) ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ১৯৯৫ সালের ৪ নভেম্বর আততায়ীর গুলিতে নিহত হন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়িৎসাক রবিন। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ফিলিস্তিনের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। শান্তি প্রক্রিয়ায় অবদানের জন্য ১৯৯৪ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
মাইকেল ক্রিকটন (১৯৪২–২০০৮) মার্কিন ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন জনপ্রিয় মার্কিন লেখক মাইকেল ক্রিকটন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কল্পবিজ্ঞানের সমন্বয়ে রচিত তাঁর উপন্যাস বিশ্বজুড়ে পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। ‘জুরাসিক পার্ক’ তাঁর সবচেয়ে আলোচিত সাহিত্যকর্মগুলোর একটি।
জিল দেল্যুজ (১৯২৫–১৯৯৫) ফরাসি দার্শনিক। ১৯৯৫ সালের ৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন প্রভাবশালী ফরাসি দার্শনিক জিল দেল্যুজ। আধুনিক দর্শন, সাহিত্য সমালোচনা ও সামাজিক চিন্তায় তার তাত্ত্বিক অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ফেলিক্স গাত্তারির সঙ্গে যৌথভাবে রচিত তার বইগুলো দর্শনচর্চায় নতুন চিন্তার ক্ষেত্র তৈরি করে।
অ্যান্ডি রুনি (১৯১৯–২০১১) মার্কিন সাংবাদিক ও টেলিভিশন ভাষ্যকার। ২০১১ সালের ৪ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন মার্কিন সাংবাদিক অ্যান্ডি রুনি। টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘৬০ মিনিটস’-এ তাঁর ব্যতিক্রমী ভাষ্য ও সমাজ পর্যবেক্ষণ ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও সামাজিক অসংগতিকে সহজ ভাষায় তুলে ধরতেন তিনি।
রবার্ট ই. শেরউড (১৮৯৬–১৯৫৫) মার্কিন নাট্যকার ও চিত্রনাট্যকার। ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর প্রয়াত হন মার্কিন নাট্যকার রবার্ট ই. শেরউড। নাটক ও চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য রচনায় তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তার রচিত ‘দ্য বেস্ট ইয়ার্স অব আওয়ার লাইভস’ চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়।
জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যদিয়ে মানুষের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটলেও তার কর্ম ও অবদান ইতিহাসে বেঁচে থাকে। ৪ নভেম্বর জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা তাদের মেধা ও সৃষ্টিশীলতায় পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করেছেন। অন্যদিকে, এ দিনে প্রয়াত গুণীজনদের কাজ আজও মানুষকে ভাবায়, অনুপ্রাণিত করে। সময়ের সীমানা পেরিয়ে তাদের অবদানই হয়ে উঠেছে স্মরণীয় ইতিহাসের অংশ।


