সকালের চা কিংবা কাজের ফাঁকে এক কাপ গরম পানীয় অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু চা কতটা গরম অবস্থায় পান করা হচ্ছে, তা নিয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন। চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত অত্যন্ত গরম পানীয় পান করার অভ্যাস খাদ্যনালির ক্যান্সারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। চা, কফি কিংবা স্যুপ অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করলে মুখ ও গলার সংবেদনশীল আবরণে তাপজনিত ক্ষতি হতে পারে।
 একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে খাদ্যনালির ভেতরের সুরক্ষামূলক স্তর। বারবার এমন ক্ষতি হলে শরীর কোষ মেরামতের চেষ্টা করে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে কোষের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে পরামর্শক ক্লিনিক্যাল অনকোলজিস্ট চিকিৎসক সপ্তর্ষি ঘোষের বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত উচ্চ তাপমাত্রার পানীয় নিয়মিত পান করলে খাদ্যনালিতে বারবার তাপজনিত আঘাত লাগতে পারে।
 তবে একবার গরম চা পান করলেই ক্যান্সার হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। মূল উদ্বেগ দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস নিয়ে। প্রতিবেদনে ৬০ থেকে ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার পানীয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থা আইএআরসিও ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় পান করা পানীয়কে খাদ্যনালির ক্যান্সারের সম্ভাব্য ঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, চা তৈরি করার পর কয়েক মিনিট অপেক্ষা করে পান করা ভালো। 
পান করার সময় মুখ বা গলায় জ্বালাপোড়া অনুভূত হলে আরও অপেক্ষা করা উচিত। শুধু ধোঁয়া উঠছে কি না, তা দেখে পানীয়ের সঠিক তাপমাত্রা বোঝা যায় না। খাদ্যনালির ক্যান্সারের ঝুঁকি বিবেচনায় তামাক পরিহার এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। তাই চা পান বন্ধ করার প্রয়োজন নেই; বরং অতিরিক্ত গরম অবস্থায় পান করার অভ্যাস এড়িয়ে চলাই মূল সতর্কতা।