কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যা মামলায় চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। গত ২০ অক্টোবর দেওয়া অভিযোগপত্রের বিষয়টি শুক্রবার গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।
পুলিশের ভাষ্য, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দুই প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৫ ও ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রাপ্তবয়স্ক দুই আসামি হলেন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯) ও মো. সিয়াম (১৯)। শিশু আইন অনুসারে বাকি দুজনকে শিশু হিসেবে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তারা গাজীপুর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের ছেলে। সে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার অভিযোগপত্র দাখিলের খবর পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত বিচার শেষ করার দাবি জানান। দুই কিশোরের বয়স নির্ধারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বয়স পুনর্নির্ধারণের দাবি করেছেন তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজীব আহমেদ অভিযোগপত্র দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর সে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ।




