দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৩০০ শিশু। কারাগারের পরিবেশ দীর্ঘ মেয়াদে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের উপযোগী নয় উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে বিকল্প পারিবারিক যত্ন এবং সরকারি শিশু পরিবারে আবাসনের সুপারিশ করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।
সম্প্রতি অধিদপ্তরের শিশু সুরক্ষা ইউনিট ও প্রবেশন শাখার সমন্বিত প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে কারাগারে থাকা শিশুদের সুরক্ষা ও কল্যাণে চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রবেশন কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’র মাধ্যমে কারাগারে থাকা শিশুদের খেলনা, পোশাক ও পুষ্টিকর শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হয়। তবে এসব সহায়তার পাশাপাশি শিশুদের উপযুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছে অধিদপ্তর।
আদালতের নির্দেশে প্রতিবেদন
গত ৮ মে একটি দৈনিকে ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অভিমত যুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত জুনে হাইকোর্টে রিট করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৫ জুন আদালত রুল জারি করেন এবং দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দী মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা, বয়স ও সার্বিক অবস্থা জানিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এ জন্য কারা মহাপরিদর্শককে দুই মাস সময় দেওয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় সমাজসেবা অধিদপ্তর সমন্বিত প্রতিবেদনটি রিট আবেদনকারীর কাছে পাঠায়। আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ সোমবার প্রথম আলোকে জানান, চলতি সপ্তাহে প্রতিবেদনটি তার হাতে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে ২৫ অক্টোবর নিয়মিত আদালত বসলে এটি উপস্থাপন করা হবে।
দুই ধরনের যত্নের প্রস্তাব
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুপারিশে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট বয়স বা সময়সীমা শেষে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় নিকটাত্মীয়ের কাছে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ‘ফস্টার কেয়ার’ বা বিকল্প পারিবারিক যত্নের ব্যবস্থাও বিবেচনা করা যেতে পারে।
তবে নিকটাত্মীয়ের কাছে রাখার সুযোগ না থাকলে কিংবা সেখানে শিশুর নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাকে সরকারি শিশু পরিবার বা উপযুক্ত নিরাপদ আবাসনকেন্দ্রে রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। সেখানে শিশুর লালন-পালন, শিক্ষা ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার সার্ভিসেস’ কার্যক্রম দেশের ৬৪টি জেলা ও আটটি চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতসহ মোট ৭২টি ইউনিটে পরিচালিত হচ্ছে। এ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতি’ শিশুদের কল্যাণে কাজ করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কারাবন্দী মায়ের পরিস্থিতির কারণে কোনো শিশু যেন স্বাভাবিক শৈশব, শিক্ষা ও বিকাশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ।