ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের একটি কোর্সের ৬০টির বেশি পরীক্ষার উত্তরপত্র খুঁজে না পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ‘২১০৭’ নম্বর কোর্সের এসব খাতা দ্বিতীয় পরীক্ষকের মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও একই বিভাগের অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের নামে বরাদ্দ ছিল।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর বিভাগীয় পর্যায়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে।
মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে প্রশাসনের তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।
তিন সদস্যের কমিটিতে বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দকে আহ্বায়ক, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরুজ্জামানকে সদস্য সচিব এবং ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে সদস্য করা হয়েছে।

এদিকে উত্তরপত্র না পাওয়ায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে ওই সেমিস্টারের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ আটকে আছে। এর প্রভাব পড়েছে পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষাতেও। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেশনজটের আশঙ্কা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এর আগে একই ঘটনা তদন্তে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবদুল গফুর গাজী তিন সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি করেছিলেন। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. শাহাবুল আলম। সদস্য ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. শরিফুল ইসলাম ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এমএম শরিফুল বারী।

বিভাগীয় সূত্রের দাবি, ওই কমিটি ইতোমধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এএসএম আয়নুল হক আকন্দ জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। এখন প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। আগামী বৃহস্পতি বা শনিবারের মধ্যে উপাচার্যের কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আশা করছেন তারা।প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ থাকবে এবং সেটির ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।