বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদন ছাড়াই দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১৭টি স্টাডি সেন্টার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের সুযোগের কথা প্রচার করা হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ডিগ্রির স্বীকৃতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টার অনুমোদনের বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ইউজিসি।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মার্চ অনুমোদনহীন শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টারের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি ২৫ এপ্রিলের মধ্যে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে বলা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান আবেদন করে। সেগুলোও অনুমোদনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে পারেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ইউজিসির তালিকাভুক্ত ১৭টি প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এ ছাড়া সুইজারল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার প্রতিষ্ঠানের নামও তালিকায় আছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার বিজ্ঞান, অর্থনীতি ও হিসাববিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্স পরিচালনার তথ্য পাওয়া গেছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রচারে এমফিল, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল পর্যায়ের ডিগ্রির কথাও উল্লেখ রয়েছে।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ, ভূঁইয়া একাডেমি, ব্যাক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, নিউক্যাসল ল একাডেমি, ব্রিটিশ স্কুল অব ল, লন্ডন কলেজ অব লিগ্যাল স্টাডিজ, লন্ডন স্কুল অব কমার্স ঢাকা, লিংকনস হায়ার এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট ও কিংস্টন ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকলেও ইউজিসির অনুমোদন নেই।
ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, অনুমোদনহীন এসব স্টাডি সেন্টার এভাবে চলতে দেওয়া যায় না। অবৈধ প্রতিষ্ঠানকে শিগগির আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস ও স্টাডি সেন্টার অনুমোদনের ২০১৪ সালের বিধিমালা যুগোপযোগী নয়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
বর্তমান বিধিমালা অনুযায়ী, ইউজিসির অনুমতি ছাড়া বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস বা স্টাডি সেন্টার পরিচালনার সুযোগ নেই। অনুমোদনের জন্য কোর্স, পাঠ্যক্রম, শিক্ষক, অবকাঠামো, বিনিয়োগ ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তির তথ্য জমা দিতে হয়।
বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অনুমোদন ও ডিগ্রির বৈধতা নিশ্চিত না করে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হলে শিক্ষার্থীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। চাকরি, উচ্চশিক্ষা কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে সনদের স্বীকৃতি নিয়েও জটিলতা দেখা দিতে পারে।




