ভারতের ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসায় বুধবারও বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।
দুই দেশের বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরেও এর প্রভাব পড়েছে। বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে আমদানি-রপ্তানিকারকদেরও গুনতে হচ্ছে আর্থিক ক্ষতি।
তবে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটে প্রশাসনিক বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাঁর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এতে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক জটিলতা, বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার সকালে মুঠোফোনে ভারতের হিলি এক্সপোর্টার অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি বিকাশ মন্ডল বলেন, পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য স্থলবন্দরের তুলনায় হিলি স্থলবন্দর ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ীদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
বিকাশ মন্ডলের ভাষ্য, অন্যান্য স্থলবন্দর দিয়ে যেখানে স্বাভাবিকভাবে বাণিজ্য পরিচালিত হচ্ছে, সেখানে হিলি দিয়ে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতা ও হস্তক্ষেপের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “বৈষম্যের বিরুদ্ধে এবং ব্যবসায়ীদের স্বার্থে বাধ্য হয়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে সব ধরনের পণ্য রপ্তানি বন্ধ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকেও পণ্য আমদানি বন্ধ রয়েছে।”
বিকাশ মন্ডল আরও জানান, বুধবার দুপুরে বালুরঘাটে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। সেখানে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। হিলি বন্দরের মাধ্যমে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে যে প্রশাসনিক বাধাগুলো রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবিও জানানো হবে।
তিনি বলেন, “আমরা আশা করছি, মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং হিলি বন্দরের সমস্যাগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। এরপর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। তবে সমস্যার সমাধান না হলে ধর্মঘট অনির্দিষ্টকাল অব্যাহত থাকবে।”
বাংলাদেশের হিলি স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী ওয়াহেদুর রহমান রিপন বলেন, ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক ব্যবসায়ী ভারতে পণ্য আমদানির জন্য ইতোমধ্যে এলসি করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় অনেক পণ্যবাহী ট্রাক ভারতের অংশে আটকে রয়েছে।
সময়ের মধ্যে পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারায় ব্যবসায়ীদের লোকসানের পরিমাণ আরও বাড়ছে বলে জানান তিনি।ওয়াহেদুর রহমান রিপন বলেন, “আমরা দ্রুত ভারতের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানাচ্ছি।”বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্য বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন শ্রমিকরা। বন্দরের শ্রমিক গোলাপ হোসেন জানান, তিন দিন ধরে ভারত থেকে কোনো পণ্যবাহী ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করছে না। একইভাবে বাংলাদেশ থেকেও রপ্তানিপণ্য নিয়ে কোনো ট্রাক ভারতে যাচ্ছে না। ফলে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা দিন আনি, দিন খাই। এভাবে কাজ বন্ধ থাকলে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে পড়তে হবে।”এদিকে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও হিলি স্থল কাস্টমস স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজস্ব কর্মকর্তা পারভেজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও কাস্টমসের অফিসিয়াল কার্যক্রম চালু আছে। আগে আমদানি করা পণ্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর খালাসের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
হিলি বন্দরে তৃতীয় দিনেও বাণিজ্য বন্ধ, বুধবার বৈঠকে সমাধানের আশা
ভারতের ব্যবসায়ীদের ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি টানা তৃতীয় দিনের মতো বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না আসায় বুধবারও
প্রিয় বাংলাদেশঅর্থনীতি


