আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, রমজানের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে। এ সময় ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলেও জানান তিনি।
আজ ঢাকায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভোজ্যতেল, ছোলা, ডাল ও চিনিসহ আমদানিনির্ভর পণ্যের সরবরাহ এবং রমজানের সম্ভাব্য চাহিদা পর্যালোচনা করেছে সরকার। বাজার স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির পাইপলাইনে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে রমজানের আগে, চলাকালে কিংবা পরে পণ্যের ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম কিছুটা বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমদানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার সতর্ক রয়েছে।
পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সমস্যা হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এলসির মার্জিন বা ব্যাংকিং জটিলতায় কোনো আমদানিকারক সমস্যায় পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া, ওমান, নিউজিল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলছে।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাজারে শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এ পরিস্থিতিতে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশের পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।