রাজধানীর গুলশানে গভীর রাতে দুটি বারে অভিযান চালিয়ে ১০৯ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। মদ্যপানের বৈধ অনুমতিপত্র না থাকার অভিযোগে তাঁদের আটক করা হয়। পরে মুচলেকা ও লিখিত অঙ্গীকারনামা নিয়ে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযান চালানো বার দুটি হলো গুলশান এভিনিউয়ের আরএম টাওয়ারের ‘র ক্যানভাস’ এবং একই ভবনের ষষ্ঠ তলায় অবস্থিত ‘মিডিয়া ক্লাব’।
রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে আরএম টাওয়ারের চতুর্থ তলায় ‘র ক্যানভাস’ বারে অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গুলশান সার্কেল। অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, বৈধ লাইসেন্স ছাড়া বারে মদ্যপানের অভিযোগের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর তদন্তে যায় অধিদপ্তরের একটি দল। এ সময় বারটিতে থাকা ৯১ জন তরুণ-তরুণীকে আটক করা হয়। পরে গুলশান থানা থেকে পুলিশ ডেকে তাঁদের মুচলেকা নেওয়া হয়। ভবিষ্যতে অনুমতি ছাড়া বারে মদ্যপান করবেন না—এমন অঙ্গীকারের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
একই রাতে আরএম টাওয়ারের ষষ্ঠ তলায় ‘মিডিয়া ক্লাব’ বারে অভিযান চালায় অধিদপ্তরের ঢাকা উত্তর অঞ্চলের একটি দল। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলের ১৫৮/সি নম্বর হোল্ডিংয়ে প্রতিষ্ঠিত এ ক্লাবের মালিকানা গত ৫ আগস্টের পর পরিবর্তন হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন স্থানে ক্লাবটির নামে বার পরিচালিত হয়েছে। তবে আরএম টাওয়ারে ‘মিডিয়া ক্লাব’ নামে বার পরিচালনার বৈধ অনুমতি নেই বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
ঢাকা উত্তর অঞ্চলের উপপরিচালক রাজিউর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অনুমোদন ছাড়া বার ব্যবহারের অভিযোগে আরও ১৮ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরও মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানের পর বার দুটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আইন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। এরপর অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।
এদিকে অভিযানের ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গভীর রাতে অভিজাত এলাকার বারে অভিযান, উপস্থিত ব্যক্তিদের আটক এবং তাঁদের বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার আইনগত ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বৈধ অনুমতিপত্র যাচাই এবং আইন মেনে বার পরিচালনা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।