দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি এবং মাসের শেষভাগে আমদানি বিল পরিশোধের প্রবণতা বাড়ায় ডলারের চাহিদা বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের গড় বিনিময় হার ছিল ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, আগের দিন এ হার ছিল ১২৩ টাকা ৯৮ পয়সা। এক দিনের ব্যবধানে পরিবর্তন সামান্য হলেও ব্যাংকিং ও খোলাবাজারে ডলারের মূল্য এক নয়।
ডলারের জোগান বাড়াতে বুধবার নিজেদের রিজার্ভ থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে সরবরাহ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকারদের মতে, তেল ও গ্যাস আমদানির বিপরীতে ঋণপত্রের অর্থ পরিশোধের প্রয়োজন বেড়ে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওপর বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে।
বিভিন্ন ব্যাংকের লেনদেনের দরেও পরিবর্তন দেখা গেছে। ইস্টার্ন ব্যাংক বৃহস্পতিবার প্রতি ডলার বিক্রির মূল্য নির্ধারণ করে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা। ব্যাংকটির কেনার দর ছিল ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সা। বুধবার বিক্রি ও কেনার দর ছিল যথাক্রমে ১২৪ টাকা ২৮ পয়সা এবং ১২৩ টাকা ২৮ পয়সা।
রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকে ডলার বিক্রির দর ছিল ১২৪ টাকা ২০ পয়সা। ব্যাংকটি প্রতি ডলার কিনেছে ১২২ টাকা ৯৩ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহখানেক আগেও ডলারের দাম বর্তমান পর্যায়ের নিচে ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাজারে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান বর্তমানে নেই। তবে মাসের শেষ দিকে আমদানি ব্যয় পরিশোধের তাগিদ বাড়ে। অন্যদিকে, এ সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ কিছুটা কমে যাওয়ার প্রবণতা থাকে। এতে বাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের সমীকরণ সাময়িকভাবে বদলে যেতে পারে।
আমদানি ব্যয় বৃদ্ধির পরিসংখ্যানও পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাস—জুলাই ও আগস্টে—আমদানি ব্যয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২২০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে শুধু পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে ২৪৯ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের দ্বিগুণ।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের জ্বালানি আমদানির ব্যয়ে। আমদানি বিল মেটাতে বেশি ডলার প্রয়োজন হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে চাপ বাড়ছে।
তবে ডলারের দর নিয়ে চাপ থাকলেও রিজার্ভের চিত্রে উন্নতি রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বিপিএম৬ হিসাবপদ্ধতি অনুযায়ী, গত ১৯ অক্টোবর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩১ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে একই পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৬ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলার।
ব্যাংকের বাইরে ডলার কেনাবেচার বাজারেও বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। বৃহস্পতিবার অধিকাংশ মানি এক্সচেঞ্জে প্রতি ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকায়। এসব প্রতিষ্ঠানে ডলার কেনার দর ছিল ১২৭ থেকে ১২৭ টাকা ৫০ পয়সা। ফলে ব্যাংকের নির্ধারিত দরের তুলনায় খোলাবাজারে ডলার কিনতে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।