সিরাজগঞ্জে কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষ করে সফলতা পাচ্ছেন কৃষকরা। এ পদ্ধতিতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলনও বাড়ছে। ফলে কৃষির প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন শিক্ষিত তরুণসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বড়ধনগাছা গ্রামে পলিথিন মালচিং পদ্ধতিতে খিরা চাষ শুরু করেছেন কয়েকজন কৃষক। জমিতে লাগানো খিরার বীজ থেকে চারা গজিয়েছে এবং গাছ বড় হচ্ছে। কৃষক আশরাফুল ইসলাম এবার প্রায় দুই বিঘা জমিতে উন্নত জাতের খিরা চাষ করেছেন। এর মধ্যে ১৫ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তিনি।
আশরাফুল ইসলাম জানান, স্থানীয় কৃষি বিভাগের উৎসাহে এবারই প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে খিরা চাষ করছেন। এ পদ্ধতিতে জমিতে আগাছা জন্মানোর সুযোগ কম থাকে, মাটির রস বজায় থাকে এবং সারের অপচয় কম হয়। এসব সুবিধার কারণে প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় বেশি লাভের আশা করছেন তিনি। তার দেখাদেখি অন্য কৃষকরাও এ পদ্ধতিতে খিরা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মালচিং পদ্ধতিতে খিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ হেক্টর। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের এ পদ্ধতিতে সবজি চাষে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমি বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। এ পদ্ধতি মাটির আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা ধরে রাখতে, আগাছা নিয়ন্ত্রণে এবং মাটির গুণগত মান বজায় রাখতে সহায়তা করে। তবে পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বায়োডিগ্রেডেবল মালচিং ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।




