হাসপাতালে দায়িত্ব পালনকালে চিকিৎসকের ওপর হামলার প্রতিবাদে নীলফামারীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চিকিৎসক, মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জেলা শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। নীলফামারী মেডিক্যাল কলেজ ও নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল যৌথভাবে এর আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জিম্মা হোসেন বলেন, হাসপাতালের মতো সেবাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনরত চিকিৎসকের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। চিকিৎসকেরা মানুষের সেবা করতে এসে যদি কর্মস্থলেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হবে। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত হালদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মেডিক্যাল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সোহরাব হোসেন, শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন, ড্যাবের জেলা আহ্বায়ক সোহেলুর রহমান সোহেল, ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সজল কুমার ঘোষ এবং ছাত্র প্রতিনিধি নেওয়াজ মাহমুদ ইমন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল মতিন।
সমাবেশে জানানো হয়, রোববার দুপুরে আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট নেওয়ার সময় হাসপাতালে কর্মরত রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রথীন্দ্রনাথ মণ্ডল হামলার শিকার হন। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক নাঈম ইসলাম তাঁকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চিকিৎসকের চিৎকার শুনে অন্যরা এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটক করেন এবং পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ডা. আব্দুল মতিন বলেন, চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের বারবার নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে। নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না করা হলে চিকিৎসকদের ঝুঁকি বাড়বে এবং রোগীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সমাবেশ থেকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হাসপাতালের জনবলসংকট দূর করা এবং চিকিৎসক সুরক্ষা আইন দ্রুত প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। পরে অংশগ্রহণকারীরা শহরের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
নীলফামারী থানার ওসি জিল্লুর রহমান জানান, এ ঘটনায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল্লাহ হেল মাফি বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত নাঈম ইসলামকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।