বাগেরহাট সদর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামে সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও গলিত স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার ( ৬ নভেম্বর) পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১৪ অক্টোবর গভীর রাতে যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শেখ আতিয়ার রহমান ও তার স্ত্রী রেহেনা বেগমের ঘরে হামলা চালায় মুখোশধারী তিন ডাকাত। জানালা ভেঙে প্রবেশের পর দম্পতির হাত বেঁধে স্টিলের আলমারি থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি বাটন মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। লুট হওয়া সম্পদের আনুমানিক মূল্য ছিল ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় পরদিন ভুক্তভোগীর ছেলে শেখ ওমর ফারুক থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে ডিবি পুলিশ প্রথমে ৪ নভেম্বর নড়াইলের লোহাগড়া থেকে মো. হাসিব শেখকে গ্রেফতার করে। একই রাতে ঢাকার মিরপুর থেকে আটক করা হয় মো. ইনামুল বিশ্বাস ওরফে এনা নামের আরেকজনকে। তার কাছ থেকে লুট হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
পরে হাসিবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ঢাকার দক্ষিণখান থেকে চক্রের মূল অভিযুক্ত আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয়কে গ্রেফতার করা হয়। তার ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া ৩০ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী লুট হওয়া স্বর্ণের ২ ভরি ৫ আনা কেনার অভিযোগে আব্দুর রশিদ নামে আরেক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে গলিত অবস্থায় ওই পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার চারজনই আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সঙ্গে জড়িত। মূল অভিযুক্ত হৃদয়ের বিরুদ্ধে ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধে নয়টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটক এবং অবশিষ্ট লুণ্ঠিত সম্পদ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।