গণহত্যা, গুম ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অতীতে যারা মানুষ হত্যা করেছে, আলেম-ওলামাদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে এবং মসজিদে রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে জনগণের সম্মতি নেই।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। দুই দিনব্যাপী আয়োজনের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১৬ থেকে ১৭ বছরে দেশে প্রায় তিন হাজার মানুষ গুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। নিজেও এ ধরনের পরিস্থিতির ভুক্তভোগী ছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্যাতনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে হবে।
ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের তৎপরতার সঙ্গে ইসলামের আদর্শের সম্পর্ক নেই। বরং এসব কর্মকাণ্ড সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে। ইসলামের মূলনীতি অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশের সব শ্রেণি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার। জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রত্যাশা যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর প্রণীত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি দৃঢ় আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং রাষ্ট্রের আগের নীতিগত অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে অন্যায়, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে দেশের মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। খালেদা জিয়াও যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যারা গণতন্ত্রের বিরোধিতা করেছে এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশ ছেড়ে চলে গেছে, তাদের আর রাজনীতিতে ফিরতে দেওয়া হবে না। তবে নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দলগুলোর আদর্শ আলাদা হতে পারে, কিন্তু হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জনগণের অবস্থান এক—এমন মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।