কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত না থাকার দাবি করে দুটি রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানো ও সামাজিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছেন দিনাজপুরের আসাদুজ্জামান মুন্না নামের এক ব্যক্তি। পুরোনো নির্বাচনী প্রচারণার ছবি ব্যবহার করে তাকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান মুন্না। তিনি শহরের রামনগর এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মকর্তা মুন্না বর্তমানে জমি কেনাবেচার মধ্যস্থতার কাজ করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী রামনগর উন্নয়ন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
লিখিত বক্তব্যে মুন্না বলেন, তার পরিবারের সাত সদস্যের মধ্যে তিনিই একমাত্র উপার্জনকারী। গ্রামীণফোনে চাকরির সময় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে বেতনের বিপরীতে ঋণ নিয়েছিলেন। চাকরি চলে যাওয়ার পর আর্থিক সংকটে পড়ায় নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। এ ঘটনায় ব্যাংক ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে মামলা করে। বর্তমানে তিনি ওই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।
মুন্না জানান, ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চনের ট্রাক প্রতীকের পক্ষে কয়েক দিন প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। তার দাবি, সেই সময়ের মিছিলের ছবি সংগ্রহ করে পরবর্তী সময়ে সেগুলো ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তার নামে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ছবিগুলো প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য, নিজের কোনো ফেসবুক আইডি নেই এবং তিনি কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে জানান মুন্না। জিডি নম্বর ১২০৭/২৫। একই বছরের ২৫ নভেম্বর তার নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক আইডির বিষয়ে লিখিত অভিযোগও দেন তিনি। এরপর নির্বাচনী প্রচারণার ছবি দেখিয়ে কোতোয়ালি ও বিরল থানায় তার বিরুদ্ধে পৃথক দুটি রাজনৈতিক মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মামলা দুটি হলো ২৬/২০২৫ (সদর) ও ১৪২/২০২৫ (বিরল)। বর্তমানে এসব মামলাসহ ব্যাংকঋণসংক্রান্ত মামলায় তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্না আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দিনাজপুর পৌর শাখার কমিটিতে ইরফান খান পাপ্পু ওরফে কালা পাপ্পুকে সভাপতি করা হয়েছে। ব্যাংকঋণের মামলায় কারাগারে থাকার সময় পাপ্পু তার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে জামিন করানোর কথা বলে টেলিগ্রাম গ্রুপে বিভিন্ন নেতার কাছ থেকে বিকাশে টাকা নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। বিষয়টি জানার পর প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মুন্না।
তার অভিযোগ, ‘তারিন চৌধুরী’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এ ছাড়া তার অজ্ঞাতসারে ‘বঙ্গবন্ধু স্মার্ট বাংলাদেশ’ নামের একটি সংগঠনের সদস্য হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
মুন্না বলেন, তিনটি মামলার কারণে তিনি আর্থিক ও সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।




