কক্সবাজারের চকরিয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে ৪৯টি মণ্ডপে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কোথাও প্রতিমায় রং-তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা, কোথাও চলছে মণ্ডপ সাজানোর কাজ। উৎসবকে সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এবার দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেবীর বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে অধিকাংশ মণ্ডপে প্রতিমা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সাজসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতি।
চকরিয়া উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ জানান, উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে ৪১টি এবং পৌরসভায় আটটি মণ্ডপে পূজা হবে। এর মধ্যে ফাঁসিয়াখালীতে আটটি, কাকারায় তিনটি, বরইতলীতে ছয়টি, হারবাংয়ে আটটি, ডুলাহাজারায় সাতটি, খুটাখালী ও চিরিঙ্গায় একটি করে, সাহারবিলে দুটি, কৈয়ারবিলে তিনটি এবং পূর্ব বড় ভেওলায় দুটি মণ্ডপ রয়েছে।
তিনি বলেন, পূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে মণ্ডপের আয়োজকদের সঙ্গে একাধিকবার মতবিনিময় হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এবার চকরিয়া সার্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দিরের দুর্গাপূজায় থাকছে বিশেষ আয়োজন। আয়োজকেরা মা দুর্গার বহুরূপী ভাবনাকে কেন্দ্র করে থিম তৈরি করছেন। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
গত ৮ অক্টোবর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পূজার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও শাহীন দেলোয়ারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান, বিভিন্ন মণ্ডপের সভাপতি ও সম্পাদক, পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশের একাধিক রেসপন্স টিম ও মোবাইল টিম প্রস্তুত থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও এসআরবি সদস্যরাও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবেন।