বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আলিমাবাদ ইউনিয়নে সার ডিলারশিপ পেতে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স জমা ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ট্রেড লাইসেন্সের বৈধতা এবং ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিউটি বেগমের স্বামী মোহাম্মদ আলম খন্দকারের নামে ভোলার রাজাপুর ইউনিয়নের জনতা বাজারে সারের খুচরা বিক্রেতার সাব-ডিলারশিপ রয়েছে। এ ছাড়া ভোলার কর্নরোকপুর মোল্লা বাজারে ‘মেসার্স জাহাঙ্গীর ট্রেডার্স’ নামে সার ডিলারশিপ পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে বিউটি বেগমের বিরুদ্ধে। ওই প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স নম্বর ৬১৭ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ভোলায় পরিবারের স্থায়ী ঠিকানা থাকা সত্ত্বেও বিউটি বেগম ভোটার এলাকার ঠিকানা পরিবর্তন করে মেহেন্দিগঞ্জের আলিমাবাদ ইউনিয়নে ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয় ১৪ আগস্ট। এরপর ২০ আগস্ট ভোটার ঠিকানা পরিবর্তন এবং ২২ আগস্টের একটি ট্রেড লাইসেন্স আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের একটি নাগরিক সনদও জমা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান হোসেন দাবি করেন, বিউটি বেগমের নামে দেখানো ট্রেড লাইসেন্সটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইস্যু করা হয়নি। তার ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট নম্বরের লাইসেন্সটি অন্য ব্যক্তির নামে রয়েছে এবং বিউটি বেগমের নামে ইস্যু করা লাইসেন্সের কোনো নথি পরিষদে নেই।
অন্যদিকে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা চন্দ্রশেখর বসু বলেন, কাগজপত্র যাচাই করে নিয়ম অনুযায়ী বিউটি বেগমের নাম সার ডিলারশিপের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে নথিতে কোনো ঘাটতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, একই পরিবারের সদস্যদের সার বিক্রির লাইসেন্স বা ডিলারশিপ থাকলে অন্য সদস্যের আবেদন করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ অবস্থায় বিউটি বেগমের আবেদন ও জমা দেওয়া নথির বৈধতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।




