চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়িতে ফণি ও শোভনছড়ি খাল থেকে অনুমোদন ছাড়াই বালু উত্তোলন ও বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে। খাল থেকে তোলা বালু পাড়ে জমা করে ট্রাক ও জিপগাড়িতে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কারণে খালের পাড়, গ্রামীণ সড়ক, ফসলি জমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে কয়েকটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, বালু উত্তোলনের কারণে খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও পাড় ভাঙছে। বালুবাহী যানবাহনের চলাচলেও সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে শোভনছড়িতে প্রবেশের প্রধান সড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য, খালের বিভিন্ন স্থান থেকে বালু তুলে এসব স্তূপ করা হচ্ছে। পরে যানবাহনে করে তা অন্যত্র সরবরাহ করা হয়। এতে জনবসতি ও কৃষিজমির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আহমদ রহিমের অভিযোগ, বালু উত্তোলনকারীদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। তাদের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার প্রশ্ন, সড়ক যোগাযোগ ভালো থাকা সত্ত্বেও অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান অভিযান নেই কেন। আরেক বাসিন্দা মাহবুবুল আলম অভিযোগ করেন, প্রশাসনসহ বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতার মাধ্যমে এ ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বালু উত্তোলনে জড়িত চক্রগুলোর রাজনৈতিক পরিচয় বদলালেও কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ফটিকছড়ির সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহমত উল্লাহ বলেন, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং শিগগিরই শোভনছড়িতে অভিযান চালানো হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদ মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, ওই এলাকায় বালু উত্তোলনের কোনো বৈধ ইজারাদার নেই। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত খাল ও সড়ক রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে এলাকার পরিবেশ, কৃষিজমি ও বসতবাড়ির ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যাবে।