বাংলাদেশে উৎপাদিত কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্যের মান, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্প্রসারণের সম্ভাবনার প্রশংসা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।রাজধানীতে শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’ পরিদর্শনের সময় দেশের অন্যতম শীর্ষ কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার প্রতিষ্ঠান রিমার্ক-হারল্যানের প্যাভিলিয়ন ঘুরে দেখেন তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরা (আইসিসিবি)-এর হল নম্বর-৪-এ তিন দিনব্যাপী ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। এবারের প্রদর্শনীর সহযোগী হিসেবে রয়েছে রিমার্ক-হারল্যান গ্রুপ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে বিশ্বের ১৬টি দেশের ৫৮টি কোম্পানি এবং ১৩২টি ব্র্যান্ড অংশ নিয়েছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিমার্ক-হারল্যানের প্যাভিলিয়ন পরিদর্শন করেন। সেখানে বাংলাদেশে উৎপাদিত প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের কসমেটিকস ও স্কিনকেয়ার পণ্য দেখেন তিনি।

প্যাভিলিয়নের ভিন্নধর্মী উপস্থাপন, পণ্যের বৈচিত্র্য ও আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থাপনা দেখে আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি প্রতিষ্ঠানের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম, আধুনিক প্যাকেজিং ও প্রিন্টিং ব্যবস্থা, ব্যবহৃত কাঁচামাল, গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভোক্তাদের চাহিদা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চান।

পরিদর্শন শেষে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে কসমেটিকস উৎপাদনের সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। রিমার্কের উদ্যোগের পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে কসমেটিকস খাতে আমদানিনির্ভরতার পরিবর্তে রপ্তানিমুখী দেশে পরিণত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, দেশে এখন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ করা গেলে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, রিমার্ক-হারল্যানের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাস, হারল্যান স্টোরের হেড অব মার্কেটিং মো. হাবিবুল্লাহ হাবিব, রিমার্ক-হারল্যানের সিনিয়র অপারেটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রিমার্ক-হারল্যানের পরিচালক (ফার্মা) সুকান্ত দাস বলেন, বাংলাদেশের কসমেটিকস ও পার্সোনাল কেয়ার শিল্প বর্তমানে বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শুধু দেশের বাজারের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন ও রপ্তানিমুখী শিল্প হিসেবে এ খাতকে গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।তার মতে, ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’ দেশের কসমেটিকস শিল্পের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য অংশীদারদের যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও রপ্তানি সম্ভাবনাকে বিশ্ববাজারে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

রিমার্ক-হারল্যান সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশের কসমেটিকস খাতে ‘গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিস’ (জিএমপি) সার্টিফিকেশন অর্জন করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম cGMP, ISO এবং Halal মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।বাংলাদেশে উৎপাদিত রিমার্কের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের পণ্য দেশের বাজারের পাশাপাশি ভারত, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হচ্ছে।

ভারতের উত্তর প্রদেশ ও বিহারেও লিলি, নিওর ও সিওডিলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পণ্য বাজারজাত শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও এসব পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

আয়োজকদের ভাষ্য, ‘কসমেটিকা ঢাকা ২০২৬’ কেবল পণ্য প্রদর্শনের আয়োজন নয়। এটি বাংলাদেশের প্রসাধনী ও ব্যক্তিগত পরিচর্যা শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় এবং শিল্পসংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন সংযোগ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।তিন দিনের এ প্রদর্শনীতে শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি সৌন্দর্যপ্রেমী, মেকআপ শিল্পী, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ দর্শনার্থীদেরও অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।