চলনবিল অঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করায় সরিষা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন কৃষকরা। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও তাড়াশসহ চলনবিলের বিভিন্ন এলাকায় মাঠের পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমি পরিষ্কার ও বীজ বপনের কাজ শুরু হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই আগাম জাতের সরিষা বপন করবেন বলে জানিয়েছেন কৃষকরা।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও তাড়াশ, নাটোরের সিংড়া ও গুরুদাসপুর এবং পাবনার চাটমোহরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় সরিষা চাষের প্রস্তুতি চলছে। শরতের শেষ সময়ে কৃষকেরা জমি তৈরি, আগাছা পরিষ্কার ও বীজ বপনের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উল্লাপাড়া উপজেলায় ২৪ হাজার ৬০৫ হেক্টর এবং তাড়াশ উপজেলায় ১০ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছেন। গত বছরের তুলনায় এবার সরিষা চাষের পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তুলনামূলক কম খরচে লাভজনক হওয়ায় এ ফসলের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।
তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের কৃষক আহসান আলী বলেন, বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পর জমি শুকাতে শুরু করেছে। এখন সরিষা বপনের উপযুক্ত সময়। আগাম জাতের সরিষা বপন করলে ডিসেম্বরের শেষ দিকে ফুল আসবে এবং জানুয়ারিতে ফলন পাওয়া যাবে।
উল্লাপাড়ার বড় পাঙ্গাসী গ্রামের কৃষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, পানি নেমে যাওয়ায় সরিষা আবাদের জন্য জমি তৈরি করছেন তাঁরা। কেউ কাদামাটিতে বীজ বপন করবেন, আবার কেউ জমি চাষ করে বীজ বপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্ত বলেন, চলনবিলের মাটি ও পরিবেশ সরিষা চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকদের উন্নত জাতের সরিষা চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণেও অবদান রাখা সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী জানান, উল্লাপাড়ায় চলতি বছর ২৪ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও সরিষার ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।