জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক আলী আহমেদকে ঘিরে ওঠা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই কর্মস্থলে দীর্ঘ ১১ বছর দায়িত্ব পালন এবং বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালে নেত্রকোণা থেকে বদলি হয়ে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগ দেন আলী আহমেদ। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। সম্প্রতি জেলার পাঁচ শতাধিক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি প্রদান, শিক্ষক নিয়োগ, পদায়ন এবং বদলি ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে।
এসব বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ এলাকার এক শিক্ষক।
আলী আহমেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদন ও লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কোনো তদন্ত শুরু হয়েছে কি না কিংবা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
জেলার কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে দাপ্তরিক প্রয়োজনে গেলে আলী আহমেদের সহযোগিতা নিতে হয়। তাদের ভাষ্য, বিভিন্ন কাজের প্রক্রিয়ায় তার মধ্যস্থতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠায় অনেক শিক্ষককে তার ওপর নির্ভর করতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক দাবি পূরণ না করলে সংশ্লিষ্ট কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই পদে ও একই কর্মস্থলে থাকার কারণে অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে তার প্রভাব তৈরি হয়েছে। অতীতে সংবাদ প্রকাশের পরও কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসায় অভিযোগকারীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন একজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর একই জায়গায় দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলী আহসান বলেন, আলী আহমেদ ১১ বছর ধরে একই অফিসে কর্মরত রয়েছেন, এটি সত্য। তবে তার নাম ব্যবহার করে কেউ অর্থ আদায় করলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় থাকার নিয়ম নেই। আলী আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রয়েছেন বলে তাকে দ্রুত অন্যত্র বদলির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হাসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার কারণ অনুসন্ধান এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা।




