শ্রমিক অসন্তোষের জেরে অচল হয়ে পড়েছে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলের একাংশ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলার ১২০টি পোশাক ও শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন।
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কোনাবাড়ী, নাওজোড়, মৌচাক, পল্লী বিদ্যুৎ ও হরিণহাটি এলাকায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়। পুলিশের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি শতাধিক যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে এবং কারখানার সম্পদ ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ১২০টি কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মঙ্গলবার থেকে উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসাইন জানান, চালু থাকা কারখানাগুলোকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের একটি অংশ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিল। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারখানাগুলো সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় শ্রমিকদের অবস্থানের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে শিল্প পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
দুপুর ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে গেলে যান চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়।
কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় শিল্প উৎপাদনের পাশাপাশি স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়েছে।




