নীলফামারীতে ২০২৫ সালে শারীরিক নির্যাতন, গৃহনির্যাতন, ভয়ভীতি, জমিজমা নিয়ে বিরোধ, অপহরণ ও অনলাইন হয়রানিসহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার ১ হাজার ১৬৮টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌতুক, বাল্যবিয়ে ও সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার থেকে সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সংলাপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্ট কাম কমিউনিটি সেন্টারে ‘জেন্ডার সমতা অর্জন ও বৈষম্য নিরসনে নাগরিক সম্পৃক্ততা’ (ফেসিং) প্রকল্পের উদ্যোগে এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার (ইউএসএস) নির্বাহী পরিচালক ভুবন চন্দ্র রায়ের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন প্রকল্প সমন্বয়কারী ফিরোজ নুরুন্নবী যুগল। জেলা সমন্বয়কারী মুজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সংলাপের উদ্বোধন করেন জেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক তাসনিম ফৌজিয়া ওপেল।
এতে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুম আলী ও নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম। সংলাপে জেলা ও উপজেলা নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য, এনজিও প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সংলাপে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় ডেমক্রেসিওয়াচের মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন সমন্বয়কারী মাহমুদ হাসান তালুকদার জানান, ২০২৫ সালে জেলায় ২৬৮টি শারীরিক নির্যাতন, ২৩৮টি ভয়ভীতি প্রদর্শন, ২৮৬টি গৃহনির্যাতন, ১০৫টি জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ, ৬৯টি আর্থিক বিরোধ, ৩২টি তালাক ও যৌতুকসংক্রান্ত ঘটনা এবং ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টার ১৫টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এ ছাড়া চুরি-ছিনতাইয়ের ৩৭টি, অপহরণের ৪১টি, অনলাইন হয়রানির ৪০টি, ইভটিজিংয়ের ছয়টি এবং অন্যান্য ৩১টি সহিংসতার ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়। পুলিশ স্টেশন, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ, স্থানীয় পত্রিকা ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সূত্র থেকে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সংলাপে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সদস্য কাজী জেবুন্নেছা বলেন, সন্তানদের সঠিকভাবে দেখভাল না করা এবং তাদের খোঁজখবর না রাখার দায় অভিভাবকদেরও নিতে হবে। সন্তানদের প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি তাদের আচরণ ও চলাফেরার দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
আরেক সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত আসক্তি শিশু-কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তাদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাড়ানো প্রয়োজন।
সংলাপ থেকে যৌতুক, বাল্যবিয়ে ও সব ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবারভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অপরাধের তথ্য পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর ওপর গুরুত্ব দেন অংশগ্রহণকারীরা।




