চিকিৎসক নেই, ওষুধ নেই, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও অপ্রতুল। এমন পরিস্থিতিতে যশোরের অভয়নগর উপজেলার আটটি ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও লজিস্টিক সহায়তার অভাবে বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামের অন্তঃসত্ত্বা নারী, শিশু ও বয়স্কদের চিকিৎসা পেতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, আগে এসব কেন্দ্র থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরামর্শ, সাধারণ রোগের চিকিৎসা এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের সেবা দেওয়া হতো। কয়েকটি কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থাও ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী না থাকায় সেবার পরিধি কমে গেছে। এখন অনেক রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হচ্ছে। দূরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে এই যাত্রা আরও কষ্টকর।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটটি কেন্দ্রে এফডব্লিউবি পদের বিপরীতে ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে। মাত্র দুজন কর্মী দিয়ে আটটি কেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া এফডব্লিউএ পদেও অর্ধেকের বেশি শূন্য রয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে কোনো চিকিৎসক না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এর বাস্তব চিত্র দেখা গেছে রাজঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কেন্দ্রটির ভবন ও আবাসিক কোয়ার্টার জরাজীর্ণ। দেয়াল ও ছাদে ফাটল রয়েছে। ভবনের গেটে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পানির মোটর ও হলরুমের পাখা চুরি হয়েছে। কেন্দ্রের মাঠও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সামাদ শেখ বলেন, আগের মতো চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে এলাকার মানুষ নিজ নিজ ইউনিয়নেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাবে। শুভরাড়া ইউনিয়নের আকলিমা বেগম বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা না থাকায় নদী পার হয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয়। অন্যদিকে সিদ্দিপাশা ইউনিয়নের একলাস উদ্দিন জানান, ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দূরত্ব ২৫ কিলোমিটারের বেশি। এতে জরুরি চিকিৎসা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবা ব্যাহত হওয়ায় কিছু এলাকায় অননুমোদিত চিকিৎসাকেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বাড়ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষিত কর্মী ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইকবাল হোসেন বলেন, ওষুধ সরবরাহ বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা না থাকায় সেবা দেওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিব জানান, পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোর সংকট নিরসনে সরকার কাজ শুরু করেছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করছেন।