জামালপুরের মাদারগঞ্জে ‘জামালপুর-১’ গ্যাসকূপে গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর এবার আরও দুটি কূপ খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। নতুন কূপ দুটির স্থান নির্ধারণ ও মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। এখন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে সংস্থাটি।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্প দুটির অনুমোদন মিলতে পারে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাপেক্সের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন কূপ দুটির নাম হবে ‘জামালপুর-২’ ও ‘জামালপুর নর্থ-১’।
মাদারগঞ্জে তিনটি স্থানে গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা রয়েছে বাপেক্সের। এর মধ্যে বালিজুড়ী ইউনিয়নের তারতাপাড়া গ্রামে ‘জামালপুর-১’ কূপে গ্যাস পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় কূপের জন্য গুনারীতলা ইউনিয়নের সিংদহ এবং তৃতীয়টির জন্য চরপাকেরদহ ইউনিয়নের নব্যচর এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থান দুটিতে মাটি পরীক্ষার কাজও শেষ হয়েছে।
বাপেক্সের পরিকল্পনা ও আইসিটি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রউফ জানান, নতুন কূপ দুটির একটি হবে মূল্যায়ন ও উন্নয়ন কূপ এবং অন্যটি অনুসন্ধান কূপ। প্রতিটি কূপ প্রায় ২ হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে প্রকল্প দুটি পরিকল্পনা কমিশনে ডিপিপি অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
এদিকে ‘জামালপুর-১’ কূপের গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিষাবাড়ীর তারাকান্দিতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটির ফিল্ড ইনচার্জ বাইজিদ হোসেন জানান, এ কূপে গ্যাসের মোট মজুত প্রায় ১ হাজার ৩০ কোটি ঘনফুট, যার মধ্যে উত্তোলনযোগ্য মজুত ৭২০ কোটি ঘনফুট। দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট হারে গ্যাস উত্তোলন করা গেলে প্রায় পাঁচ বছর উৎপাদন চালানো সম্ভব হবে। েজামালপুর-১ কূপ থেকে যমুনা সার কারখানার দূরত্ব প্রায় ২৫ কিলোমিটার। পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
প্রায় ১৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা কূপটির কাজ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল প্রায় ২ হাজার ৬০০ মিটার গভীরতায় শেষ হয়। ওই বছরের ৩১ মে গ্যাসের সন্ধান মেলে এবং পরে পরীক্ষামূলক উত্তোলন শুরু হয়। প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির ১ হাজার ৪৪১ থেকে ১ হাজার ৪৪৪ মিটার গভীরতায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনযোগ্য গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়েছে। ১১২৪ পিএসআই চাপে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
জামালপুর-১ কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, নতুন কূপ দুটিতে গ্যাসের উপস্থিতি, মজুত ও উত্তোলনযোগ্যতা যাচাইয়ের পর তিনটি কূপ থেকেই গ্যাস উত্তোলন এবং জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তার ভাষ্য, প্রথম কূপ থেকে দৈনিক গড়ে ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।