টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বংশাই নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন কয়েক শ পরিবার। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বিভিন্ন এলাকার জমি ও স্থাপনা। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পানি উন্নয়ন বোর্ড, নৌবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি বংশাই নদীর ভাঙনকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে পানি উন্নয়ন বোর্ডের টাঙ্গাইলের প্রকৌশলী (পিডি) প্রান্ত পন্ডিত, সহকারী প্রকৌশলী আফিজুর রহমান, নদী খননকাজে নিয়োজিত নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হামজা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক রেজা ও মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের ফতেপুর, থলপাড়া, হিলড়া, আদাবাড়ি, পারদিঘী, চাকলেশ্বর, বৈলানপুর, গোড়াইল ও গাড়াইল এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এতে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, হাটবাজার ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কয়েক শ পরিবার ইতোমধ্যে বসতভিটা হারিয়ে দুর্ভোগে পড়েছে।
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে হাট ফতেপুর উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং মির্জাপুর-বাসাইল ও ফতেপুর-মহেড়া-মির্জাপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে কয়েকটি গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানান, নদীভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি টেকসই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংসদ সদস্য ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী প্রান্ত পন্ডিত ও সহকারী প্রকৌশলী আফিজুর রহমান জানান, ভাঙনকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলা হয়েছে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রকল্প তৈরি করে অর্থ বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।
সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে বহু পরিবার ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর দৈনিক ইত্তেফাকে বংশাই-লৌহজং নদীর ভাঙন ও বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়ার বিষয়টি নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন।