কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের দানবাক্সে জমা পড়া স্বর্ণ, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রার ওজন নির্ধারণ এবং গণনা শুরু হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। এ জন্য খোলা হয়েছে ৯টি মাঝারি আকারের কনটেইনার ও ছয়টি সিলগালা করা খাম।
মসজিদে দান হিসেবে নগদ টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ-রুপার গয়না ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জমা দেন দর্শনার্থীরা। দানবাক্স খোলার পর মূল্যবান সামগ্রীগুলো সিলগালা করে ট্রেজারিতে রাখা হয়েছিল। এবার স্বর্ণ ও রূপা ক্যারেট অনুযায়ী পৃথক করে ওজন করা হচ্ছে। পরে বাজারমূল্য নির্ধারণ করে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে নিলামে বিক্রি করা হবে। বৈদেশিক মুদ্রা দেশভিত্তিক আলাদা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ বিনিময় হার অনুযায়ী নগদায়ন করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, ২০২০ সালের ১১ মার্চ সর্বশেষ স্বর্ণ, রূপা ও বৈদেশিক মুদ্রা পৃথক করে গণনা করা হয়েছিল। সে সময় ৪১৫ ভরি ১ আনা স্বর্ণ ও ১৮৪ ভরি রূপা নিলামে বিক্রি করে ১ কোটি ১৫ লাখ ৪ হাজার ৯০০ টাকা পাওয়া যায়। বৈদেশিক মুদ্রা নগদায়ন করে পাওয়া যায় আরও ১ লাখ ২৭ হাজার ৬৫১ টাকা।
জেলা প্রশাসক জানান, ২০২০ সালের ১১ মার্চের পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ বার দানবাক্স খোলা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৭ জুন দানবাক্স খোলা হয়। বর্তমানে মসজিদের তহবিলে জমা রয়েছে ১৩১ কোটি ৮৫ লাখ ৪৪ হাজার ৮১০ টাকা। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে অনুদান এসেছে আরও ৩৯ লাখ ৩২ হাজার ৯০৬ টাকা।
এদিকে, ১ কোটি ১০ লাখ ৮৮ হাজার ৪৬৪ টাকা ব্যয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনটি নামাজের শেড, অজুখানা ও নারীদের জন্য ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। মুসল্লিদের জন্য মসজিদের বাইরে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। আধুনিক মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
গণনা ও ওজন নির্ধারণ কার্যক্রমে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ১০ জন পুলিশ সদস্য ও ছয়জন এসআরবি সদস্য। এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের কর্মচারী, মসজিদের কর্মচারী, জুয়েলারি সমিতির ১০ জন স্বর্ণকার এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা সহযোগিতা করছেন।