সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথ ও ভ্রমণ ব্যবসায়। ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী ফ্লাইট টানা ১৮ দিন বন্ধ থাকায় অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতির হিসাব সামনে এসেছে। ফ্লাইট বাতিলের পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের যাত্রা, টিকিট ব্যবসা ও ওমরাহ ভ্রমণেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দুই রুটে ১৫৬টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ২৪১ জন যাত্রী। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের স্থগিতাদেশ ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
প্রবাসীদের দুশ্চিন্তা বাড়ছে
ফ্লাইট বন্ধ থাকায় সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়া কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। অনেকের নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেওয়া, ভিসার মেয়াদ বজায় রাখা এবং নিয়োগকর্তার সঙ্গে চুক্তির শর্ত পূরণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যাদের জরুরি যাত্রা প্রয়োজন, তাদের জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দর ব্যবহারের বিকল্প দেওয়া হচ্ছে। তবে এসব পথে যাত্রার ক্ষেত্রে আসন পাওয়া এবং অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় বড় বিবেচ্য বিষয়।
ব্যবসায় বহুমুখী চাপ
বিমান সংস্থাগুলোর পাশাপাশি ট্রাভেল এজেন্সি ও ওমরাহসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও চাপের মুখে পড়েছেন। ফ্লাইট বাতিল হলে টিকিট পুনর্বিন্যাস, অর্থ ফেরত, বিকল্প রুটে বুকিং এবং যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগের মতো বাড়তি কাজ সামলাতে হয়। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে কেউ কেউ মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনাও পিছিয়ে দিচ্ছেন। এতে সংশ্লিষ্ট ব্যবসার আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পার্টি ফান্ড বন্ধের আশঙ্কা কতটা বাস্তব?
রিয়াদ-দাম্মাম রুটের ফ্লাইট বন্ধ থাকার পাশাপাশি সৌদি আরবে পার্টি ফান্ড বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে ফান্ডটির প্রকৃতি, এর সঙ্গে বাংলাদেশের কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সম্পর্ক এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া বিষয়টিকে আসন্ন সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রকাশ করলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
দ্রুত স্বাভাবিকতা ফেরানোর প্রত্যাশা
নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ও ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক হওয়াই এখন যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের প্রধান প্রত্যাশা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিট পুনর্বিন্যাস, অর্থ ফেরত এবং বিকল্প যাত্রার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। ফ্লাইট স্থগিতের মেয়াদ আরও বাড়লে বিমান পরিবহন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। তাই পরিস্থিতির নিয়মিত হালনাগাদ এবং সমন্বিত যাত্রীসেবা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।