হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। এ খাতে বিনিয়োগ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে মেনজিস এভিয়েশন, সুইসপোর্ট, চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং ও ডনাটা।
সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, জাপানি কনসোর্টিয়ামের অধীনে তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা, কারিগরি সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত অপারেটর নির্বাচন করা হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের প্রাধান্য রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক অপারেটর যুক্ত হলে সেবার মান, ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা ও বিমান পরিচালনার ভূমিসেবায় প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।
স্থানীয় কর্মসংস্থানে জোর
মেনজিস এভিয়েশন বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি টাকা। গ্রাউন্ড সাপোর্ট সরঞ্জাম, প্রযুক্তি, পরিচালনব্যবস্থা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণে এ অর্থ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস ওয়াইলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য রয়েছে। এসব পদের প্রায় ৯৯ শতাংশে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি সরবরাহ, পরিবহন ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট খাতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে তারা।
মেনজিসের দাবি, বিশ্বের ৬৫টি দেশের প্রায় ৩৫০টি বিমানবন্দরে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত প্রায় ৬৫ হাজার কর্মী। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকায় নিরাপত্তা, যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা ও ভূমিসেবার কার্যক্রম পরিচালনা করতে চায় তারা।
দেশে প্রশিক্ষণ একাডেমি গড়ার প্রস্তাব
গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতে দক্ষ জনবল তৈরিতে বাংলাদেশে একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে মেনজিসের। সেখানে যন্ত্রপাতি পরিচালনা, নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিমানবন্দরের ভূমিসেবা ও যাত্রীসেবায় প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের এভিয়েশন খাতেও দীর্ঘমেয়াদি সুফল আসতে পারে।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিগুলোর লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বানসংক্রান্ত এয়ার নেভিগেশন আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বেবিচকে আবেদন করেছিল তারা। মেনজিস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে স্থানীয় কোম্পানি প্রতিষ্ঠার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেলে তিন মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব বলে তাদের দাবি। তবে আবেদনটির বর্তমান অবস্থা ও কার্যক্রম শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে বেবিচকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া প্রয়োজন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পাবে সক্ষমতা
তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যুক্ত হলে ব্যাগেজ সরবরাহের সময় কমানো, বিমান প্রস্তুতকরণে দক্ষতা বাড়ানো এবং আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এসব সুফল নিশ্চিত করতে চুক্তিতে সেবার মান, নিরাপত্তা, কর্মদক্ষতা পরিমাপ ও জবাবদিহির শর্ত স্পষ্ট থাকা জরুরি।
মেনজিসের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা প্রতিযোগিতায় তাদের প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আর্থিক ও কারিগরি মূল্যায়ন, নিরাপত্তার মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের শর্ত পূরণের ওপর।