বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আবহাওয়ার সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে এর গতিপথ উত্তর-পশ্চিমমুখী বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার (২ নভেম্বর) রাতের দিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে এটি ভারতের উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবারের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সকাল ৬টার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের অবস্থান ছিল ১৪ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮১ দশমিক ৮ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলো থেকে এর দূরত্ব বিবেচনায় চট্টগ্রাম থেকে ১ হাজার ৪৪০ কিলোমিটার, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার, মোংলা থেকে ১ হাজার ২৭৫ কিলোমিটার এবং পায়রা থেকে ১ হাজার ২৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল ঝড়টি।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র থেকে ৬৪ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার রেকর্ড করা হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার সময় এই গতি বেড়ে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে। এর প্রভাবে কেন্দ্রের আশপাশের সমুদ্র উত্তাল হয়ে উঠেছে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা—চারটি সমুদ্রবন্দরেই ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সাগরে চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।




