ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে এখনই যুদ্ধে ফেরার পরিবর্তে তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় আরও সময় দিতে আগ্রহী ট্রাম্প।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে কথা হয়। ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা এবং সামরিক সংঘাত আবার শুরু করার সম্ভাবনা ছিল তাদের আলোচনার অন্যতম বিষয়। সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি ও মার্কিন সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, আলোচনায় নেতানিয়াহু দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিলেও ট্রাম্প আপাতত কূটনৈতিক উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষপাতী।
দুই নেতার কথোপকথনের ধরন নিয়েও উঠে এসেছে ভিন্ন বর্ণনা। ইসরায়েলি একটি সূত্র একে কঠোর আলোচনা হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে মার্কিন সূত্রের ভাষায়, কথাবার্তা ছিল সরাসরি। ইরান প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানের এই পার্থক্য আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে রোববার (১ নভেম্বর) ট্রাম্প নিজেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ফোনালাপকে তিনি ভালো আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরান প্রসঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান, যদিও বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি।
ইরানকে নিয়ে সামরিক ও কূটনৈতিক—দুই পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয়। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এপ্রিলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। জুনে দুই দেশের মধ্যে ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়। তবে বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি হয়নি এবং পরবর্তী সময়ে সংঘাত আবারও বেড়েছে।
গত কয়েক মাসে ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনাও বিবেচনায় রেখেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধানে পৌঁছানো ওয়াশিংটনের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
শনিবারের এক জনসভায় ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে ইরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পুনরায় হামলার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন। পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ নির্দিষ্ট কিছু স্থাপনা নিয়ে তার বক্তব্যে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছে আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে অগ্রাধিকার দেবে, নাকি সামরিক পথ বেছে নেবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।




