পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক মহল এবং খানের পরিবারঘনিষ্ঠ সূত্রের দাবি, তাকে কারামুক্ত করতে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।

৭৩ বছর বয়সি এই রাজনৈতিক নেতা বিগত তিন বছর ধরে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে নিভৃত প্রকোষ্ঠে একপ্রকার বিচ্ছিন্ন অবস্থায় বন্দী আছেন। চোখের অস্ত্রোপচারের পর তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটায় এবং দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পরিবার কিংবা আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার সমর্থকরা। 'দ্য অবজারভার'-কে দেওয়া বিবৃতিতে তার দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম উপদেষ্টা সৈয়দ জুলফি বুখারি অবিলম্বে চিকিৎসাজনিত কারণে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

এর আগে ২০১৯ সালে চিকিৎসার সুবিধার্থে নওয়াজ শরীফকে যেভাবে লন্ডনে যাওয়ার চুক্তিভিত্তিক সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, ইমরান খানের ক্ষেত্রেও সেরকম কোনো সমঝোতা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের চুক্তিতে দেশত্যাগ, রাজনৈতিক তৎপরতা থেকে বিরতি এবং নীরবতা পালনের মতো কঠোর শর্ত অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্টাফোর্ড স্মিথের মতে, ইমরান খান অত্যন্ত আপসহীন হওয়ায় এসব শর্ত সহজে মেনে নেবেন না। অন্যদিকে সামরিক বাহিনীও তাকে মুক্ত করে কোনো রাজনৈতিক ঝুঁকি নিতে চাইবে না। ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসা ইমরান খান ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে পদচ্যুত হওয়ার পর থেকেই বর্তমান সরকার ও সেনাশাসনের তীব্র চাপের মুখে রয়েছেন।

অবশ্য সামরিক হস্তক্ষেপর বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন দেশটির স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইমরান খানের বিষযটি সম্পূর্ণরূপে আদালতের ওপর নির্ভরশীল এবং চিকিৎসাজনিত কারণে তাকে জামিন দেওয়ার কোনো আইনি বা যুক্তিসংগত কারণ নেই।