ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে পদদলিত হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২৫ জন। দুর্ঘটনার কারণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি পূজা কমিটির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন বিজেপি নেতার ভূমিকা নিয়ে জবাবদিহি দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পুলিশ এ ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পূজা কমিটির একটি পোস্টার প্রকাশ করে তৃণমূল। দলটির দাবি, পোস্টারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভাতিজা দেবদীপ অধিকারীকে পূজার ‘প্রধান পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিজেপির জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝা পূজা কমিটির চেয়ারম্যান এবং উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষও পূজার সঙ্গে যুক্ত বলে পোস্টারে উল্লেখ রয়েছে।
তৃণমূলের প্রশ্ন, এত বড় প্রাণহানির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সবার বিরুদ্ধে সমানভাবে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই পূজামণ্ডপটি উদ্বোধন করেছিলেন উল্লেখ করে দলটি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তবে পোস্টারে কারও নাম থাকা মানেই দুর্ঘটনার জন্য তার দায় প্রমাণিত হওয়া নয়; তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পূজা কমিটির কয়েকজন কর্মকর্তা, ভিআইপি পাস ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং দুজন বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। তবে দেবদীপ অধিকারী, বিজয় ওঝা কিংবা তমোঘ্ন ঘোষ গ্রেপ্তার হয়েছেন—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, তদন্তে যাদের গাফিলতি পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। দেবদীপ অধিকারীর বয়স কিংবা তিনি কলকাতায় থাকেন কি না, সে বিষয়েও তার জানা নেই বলে জানান তিনি।
রোববার সকালে আহতদের দেখতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে যান ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্ঘটনার পর তার নির্ধারিত পূজাসংক্রান্ত কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তে হাইকোর্টের একজন বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রাণহানির এ ঘটনায় কলকাতায় শোকের পাশাপাশি জনসমাগমপূর্ণ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং আয়োজকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।




