তুরস্কের বৃহত্তম শহর ইস্তাম্বুলে কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও পার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মুস্তাফা চিফতচি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৪২ সালের পর দেশটিতে এমন ভয়াবহ বন্যা দেখা যায়নি। 
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত আগের ৪৮ ঘণ্টায় ইস্তাম্বুলে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে, তা সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের ঐতিহাসিক গড় বৃষ্টিপাতের সম্মিলিত পরিমাণকেও ছাড়িয়ে গেছে। প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মানুষের শহরটিতে অতিবৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার ইস্তাম্বুলের সারিয়ার এলাকার একটি সেতুর নিচ থেকে ৬৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে বন্যায় আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। 
তাঁদের মধ্যে একজন কিশোর ঝড়ের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। বন্যার পানিতে বিভিন্ন এলাকার আবাসিক ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ডুবে গেছে। সড়ক ও পার্ক তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পানির প্রবল স্রোতে বহু যানবাহন ভেসে যায়। কিছু যানবাহন পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নিচে নেমে এক জায়গায় স্তূপ হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চিফতচি জানান, বন্যার পর চারজন নিখোঁজ থাকার খবর পাওয়া গিয়েছিল। তবে শুক্রবারই একজনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য সামনে আসে। 
বন্যাসংক্রান্ত ক্ষয়ক্ষতি ও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে ৯ হাজার ৮৫০টি অভিযোগ ও প্রতিবেদন জমা পড়েছে বলেও জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিষ্কার করা এবং বাসিন্দাদের সহায়তায় ইস্তাম্বুলে ৪৬ হাজার কর্মী কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। এ সময় তাঁর সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন তুরস্কের পরিবেশ, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুরাত কুরুম। নদী ও জলপথের কাছাকাছি অপরিকল্পিত নগরায়ণ বন্যার তীব্রতা বাড়িয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মুরাত কুরুম বলেন, এ ধরনের সমস্যা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি।
 আগামী মাসে তুরস্কের আনতালিয়ায় জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক সম্মেলন কপ-৩১ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন মুরাত কুরুম। বন্যার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এখন আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়, বরং অপরিহার্য।