একসময় যে বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করত, সেই স্কুলেই বন্দুক হাতে ফিরে ভয়াবহ হামলা চালাল ১৬ বছরের কিশোর গ্রিফিন জে. জন দ্বিতীয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরের সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে তার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে তিন শিশু ও এক শিক্ষক। আহত হয়েছে আরও এক শিশু ও এক শিক্ষক। পরে এক শিক্ষার্থীর বাবা হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিফিন একসময় ওই বিদ্যালয়ের বিশেষ শিক্ষা কর্মসূচির শিক্ষার্থী ছিল। তবে নিজের সাবেক স্কুলের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষকে কেন সে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিহত তিন শিশুর বয়স পাঁচ, আট ও ১১ বছর। প্রাণ হারিয়েছেন ২৫ বছর বয়সী শিক্ষক মেগান ল্যামবার্ট। আহত সাত বছর বয়সী এক শিশু এবং ৫৪ বছর বয়সী শিক্ষক বেকি ড্রুরি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শিশুদের বাঁচাতে শিক্ষকের প্রতিরোধ
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, গ্রিফিন একটি বেড়া টপকে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। পরে ভবনের প্রবেশপথের কাচের দরজায় গুলি চালিয়ে ভেতরে ঢুকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায়। হামলার সময় সে অন্তত ১৫টি গুলি ছোড়ে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শ্রেণিকক্ষে হামলা শুরু হলে এক শিক্ষক বন্দুকধারীকে থামানোর চেষ্টা করেন। পুলিশপ্রধান মাইক ক্রান্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষক নিজের মুঠোফোন হামলাকারীর দিকে ছুড়ে মেরে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তার এই সাহসী প্রতিরোধে আরও প্রাণহানি ঠেকানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
দুই মেয়ের স্কুলে ছুটে গিয়ে হামলাকারীকে থামালেন বাবা
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের কাছ দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন ৩৬ বছর বয়সী কায়লুব জিয়ামানকো। তার দুই মেয়েই ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গুলির শব্দ শুনে এবং বন্দুকধারীকে স্কুলে ঢুকতে দেখে তিনি তার পিছু নেন। পরে নিজের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গ্রিফিনকে গুলি করেন। এতে হামলাকারী নিহত হয়।
মায়ের কেনা বন্দুক কীভাবে পেল কিশোর
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ব্যবহৃত ম্যাভেরিক ৮৮ মডেলের ১২-গেজ শটগানটি গ্রিফিনের মা শানতাই মে নিকারসনের নামে কেনা হয়েছিল। তবে কিশোরটি কীভাবে অস্ত্রটি হাতে পেয়েছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। ঘটনার পর পুলিশ তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি জব্দ করে। গ্রিফিনের মা সাংবাদিকদের বলেন, তার ছেলে ভালো ছিল এবং তিনি আগে থেকে জানতে পারলে ঘটনাটি ঠেকানোর চেষ্টা করতেন।
শোক ও মানসিক বিপর্যয়
নিহত শিক্ষক মেগান ল্যামবার্টকে তার পরিবার প্রাণবন্ত, স্পষ্টভাষী ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে। হামলার পর বিদ্যালয়ের আশপাশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় বেন্ড শহরে ২০০ জনের বেশি মানুষকে জরুরি মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়। স্কুল কর্তৃপক্ষের মতে, এই ঘটনা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী মানসিক প্রভাব ফেলতে পারে।
কেন গ্রিফিন নিজের সাবেক বিদ্যালয়ে ফিরে এমন হামলা চালাল, তার উত্তর এখনো মেলেনি। হামলার উদ্দেশ্য, অস্ত্র পাওয়ার পরিস্থিতি এবং ঘটনার আগে তার আচরণ—সবকিছু খতিয়ে দেখছে পুলিশ।




